রোববার,  ২৫ অক্টোবর ২০২০  | সময় লোডিং...
প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০১৯, ০৯:০৭:৫৩

বিএনপি খুনিদের দল: শেখ হাসিনা

বাসস
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপিকে খুনীদের দল আখ্যায়িত করে বলেছেন, ‘হত্যা, খুন ও ষড়যন্ত্রের মধ্যদিয়েই দলটির জন্ম হয়েছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। আর যাদের নিয়ে তিনি দল গড়েছেন তারাও খুনের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত। কাজেই এটা নিয়ে আর সাফাই গাইবার কিছু নেই।’
তিনি বলেন, ‘আমরা পত্র-পত্রিকা বা বিভিন্ন টক শোতে দেখি বিএনপি নেতারা সাফাই গাইতে গিয়ে একটা কথা খুব বেশি বলাবলি করছেন তা হলো- ‘৭৫ সালে তো বিএনপি প্রতিষ্ঠাই হয়নি। তাহলে তারা আবার খুন করলো কিভাবে।’
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর এবং দক্ষিণ শাখার যৌথ উদ্যোগে গতকাল শুক্রবার আয়োজিত জাতির পিতার ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি একথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপির যে প্রতিষ্ঠাতা সে নিজেই তো খুনি। আর শুধু খুনিই নন, এই খুনিদের বিচার বন্ধে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স যেমন জারি করেছিল তেমনি এই খুনিদের পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃতও করেছিল। যদিও বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানকারী অনেক দেশ এই খুনিদের চাকরি দেয়া মেনে নেয়নি।’
তিনি বলেন, ‘১৯৮০ সালে লন্ডনে অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ সভায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কুইন্স কাউন্সিলের সদস্য স্যার টমাস উইলিয়াম কিউসি এমপি এর প্রধান ছিলেন। সেই সঙ্গে আয়ারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও নোবেল বিজয়ী শ্যান ম্যকব্রাইটও সেই কমিটিতে ছিলেন। একজন সলিসিটরও নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু জিয়াউর রহমান সরকার তাঁদের বাংলাদেশে আসার ভিসা দেয়নি। অথচ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সময় এই টমাস উইলিয়াম কিউসি বাংলাদেশে এসেছিলেন পাকিস্তান সরকারের ভিসায়। কিন্ত জাতির পিতা হত্যার পর বাংলাদেশে তারা ভিসা পেলেন না।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিএনপি নেতাদের আমি জিজ্ঞাসা করি- জিয়া যদি খুনি না হন আর তার হাতে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল এই বিএনপি যদি খুনিদের দল না হয় তাহলে স্যার টমাস উইলিয়াম কিউসিকে কেন বাংলাদেশে তদন্ত করতে আসতে দেয়া হয়নি? কার দুর্বলতা কি ছিল?’
’৭৫ এ জাতির পিতাকে হত্যার পর বাংলাদেশ সমগ্র বিশ্বে একটি খুনি জাতি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মিলিটারি ডিকটেটররা যখন ক্ষমতা নেন তখন তাদের মনে ভেতর একটি সুপ্ত বাসনা থাকে রাজনৈতিক নেতা হওয়ার। যদিও প্রথমে তারা রাজনৈতিক নেতাদেরই গালি দেন। পরে আবার উর্দ্দি খুলে রাজনীতিবিদ সাজতে চান। প্রথমে হ্যাঁ,না ভোট, তারপরে রাষ্ট্রপতির ভোট, অনেক নাটক করে এরপরে সে রাজনৈতিক দল করলো এবং সেটাও কয়েক দফা দলের নাম পরিবর্তন করে জিয়াউর রহমান বিএনপি সৃষ্টি করেন।’
তিনি বলেন, সেই দলে যোগ দিল আওয়ামী লীগের কয়েকটা বেঈমান-মোনাফেক, আর দলের অন্য সকল নেতা-কর্মীদেরই গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাঁরা কারাগারে ছিল। আবার ৩ নভেম্বর কারাগারে হত্যা করা হল জাতীয় চার নেতাকে। ’৭৫ সাল থেকে ’৭৯ সাল পর্যন্ত দলের নেতা-কর্মীরা কারাগারে বন্দি ছিল।’
জিয়াউর রহমানই এদেশে গুম, খুনের রাজনীতির গোড়াপত্তনকারী উল্লেখ করে শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, ‘৭৫ পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের বহু নেতা-কর্মীর ওপর তারা অকথ্য অত্যাচার করেছে। অনেককে যে ধরে নিয়ে গেছে পরিবার লাশটিও পায়নি। আজ তারা গুম খুনের কথা বলে। এই দেশে গুম-খুনের কালচারটা শুরু করেছিল জিয়াউর রহমান।’
তিনি সে সময় গুমের শিকার কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে বলেন, ‘আমাদের নারায়ণগঞ্জের ছাত্রনেতা মাহফুজ বাবুল, চট্টগ্রামে মৌলভী সৈয়দ, বগুড়ার যুবলীগ নেতা পটলকেও ধরে নিয়ে গিয়ে এমনভাবে খুন করে যে, পরিবার তাদের কোনো হদিস পায়নি।’
শুধু আওয়ামী লীগ নয়, তথাকথিত ক্যু’য়ের নামে সেনা ও বিমানবাহিনীর হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তাকে হত্যার দায়ে জিয়াউর রহমানকে অভিযুক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘অনেকে জানতো না তাদের কী অপরাধ? এমনকি আত্মপক্ষ সমর্থনেরও কোনো সুযোগ ছিল না। ছুটি কাটিয়ে বাড়ি থেকে এসেছে এমন অনেককেও মেরে ফেলা হয়।’
তিনি বলেন, ‘শোনা যায় জিয়াউর রহমান সকালে নাস্তার টেবিলে কাঁটাচামচ দিয়েই খেত। আর এ ধরনের মৃত্যুদণ্ডের ফাইলে সই করত। সে সময় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক অনেকেই সশস্ত্র বাহিনীর জওয়ানদের ফাঁসি কার্যকরের সময়কার চিৎকারের আওয়াজ পেত, আকাশ-বাতাসও সে সময় ভারি হয়ে উঠতো।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপির চরিত্রটাই এ ধরনের খুনের। যেটা আপনারা দেখতে পেয়েছেন ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায়। প্রকাশ্য দিবালোকে হামলা করে আইভি রহমানসহ আমাদের ২২ জন নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হল।’
আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ও সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া এবং আহসানউল্লাহ মাস্টার হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘১৭ আগস্ট দেশের ৬৪ জেলার ৫শ’ জায়গায় একযোগে বোমা হামলা হলো। বোমা, খুন, হত্যা নির্যাতন জিয়াউর রহমান থেকেই শুরু। ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে ঠিক একাত্তরের পাক হানাদার বাহিনীর প্রক্রিয়াতেই বিএনপি-জামায়াত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতন চালিয়েছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ সৃষ্টি, সন্ত্রাসীদের মদদ দেয়া, অস্ত্রের চোরাকারবারী, মানি লন্ডারিং- এমন কোনো অপকর্ম নেই যা বিএনপি-জামায়াত করেনি। এর মাধ্যমে তারা সমাজকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেয়।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘জিয়া এসে আমাদের মেধাবী ছাত্রদের হাতে তার রাজনৈতিক দল করতে অস্ত্র ও অর্থ তুলে দিয়ে তাদের চরিত্র হনন করে তাদের লাঠিয়াল বাহিনী বানিয়ে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নষ্ট করেছে। বহু ছাত্রনেতা এদের হাতে জীবন দিয়েছে। ‘৭৫ থেকে ’৯৬ পর্যন্ত ২১ বছর এবং ২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত মোট ২৯ বছর এদেশে এই অরাজকতার ধারাবাহিকতা অব্যাহত ছিল।’
তিনি বলেন, জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের চলমান বিচার বন্ধ করে কারাগারে থাকা সাড়ে ১১ হাজার যুদ্ধাপরাধীকে মুক্ত করে দিয়ে তাদের রাজনীতি করার সুযোগ দানের মাধ্যমে ব্যবসায়িকভাবেও প্রতিষ্ঠার জন্য দেশে ঋণ খেলাপির কালচার শুরু করেন।
তিনি আরো বলেন, বিএনপির এটাও জানা উচিত, জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা দখলকে উচ্চ আদালত অবৈধ ঘোষণা করেছে। সংবিধান লংঘন ও মার্শাল ল’ জারি করে নিজেকে নিজে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করার সামিল। আর এই ক্ষমতা দখলকে অবৈধই ঘোষণা করা হয়েছে উচ্চ আদালতের রায়ে। সেটা যদি হয় তাহলে বিএনপির সৃষ্টিওতো অবৈধ হয়ে যায়। সেটাতো তাদের মনে থাকা উচিত।
পলাশির প্রান্তরে বাংলার শেষ নবাব সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে বিশ্বাস ঘাতকতাকারী মীরজাফরের সঙ্গে সে সময়কার রাষ্ট্রপতি মোশতাকের তুলনা করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘মীরজাফরের মতো সেও দুই মাসের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। কিন্তু এই মোশতাকই জিয়াউর রহমানকে সেনা প্রধান করেছিল। কারণ জিয়া মোশতাকের সঙ্গে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ও তার সবচেয়ে বিশ্বস্ত ছিল। সেই জিয়াই পরে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে সেনাপ্রধান থাকার পাশাপাশি নিজেকে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ঘোষণা দেয়।’
কারবালায় নির্মম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ১৫ আগস্টের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের তুলনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট যেন কারবালার ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলো ৩২ নম্বরে। আমরা দুইবোন ভাগ্যক্রমে সেদিন বেঁচে যাই। ১৫ আগস্টে শুধু একটি পরিবারকে হত্যা নয়, দেশের ইতিহাস মুছে দেয়ার অপচেষ্টা করা হয়। বাংলাদেশ সৃষ্টিতে যার অবদান, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে সকল আন্দোলন-সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর যে অবদান তা মুছে দেয়ার অপচেষ্টা হয়েছিল।’
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন। ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি একেএম রহমতউল্লাহ এতে সভাপতিত্ব করেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি আবুল হাসনাত, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, উত্তরের সহ-সভাপতি জাহানারা বেগম, দক্ষিণের সহ-সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফি, উত্তরের যুগ্ম সম্পাদক এসএম মান্নান কচি, দক্ষিণের যুগ্ম সম্পাদক কামাল চৌধুরী সভায় বক্তৃতা করেন।
 
এই পাতার আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Powered by orangebd.com