বৃহস্পতিবার,  ০৬ আগস্ট ২০২০  | সময় লোডিং...
প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০১৯, ১১:২৪:৪৩

আসামে এনআরসির চূড়ান্ত তালিকায় নেই ১৯ লাখ

ডেস্ক রিপোর্ট
ভারতের উত্তর–পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের প্রকৃত নাগরিকদের নামের তালিকা জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) থেকে বাদ পড়েছেন রাজ্যের প্রায় ১৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫৭ জন মানুষ। শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় অনলাইনে ও এনআরসি সেবাকেন্দ্রে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়। 
এক বিবৃতিতে এনআরসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চূড়ান্ত তালিকায় মোট আবেদনকারী ৩ কোটি ৩০ লাখ ১৭ হাজার ৬৬১ জনের মধ্যে নাগরিক হিসেবে স্থান পেয়েছেন ৩ কোটি ১১ লাখ ২১ হাজার ৪ জন।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এনডিটিভিকে বলেছেন, ‘তালিকাটি সকাল ১০টার মধ্যে অনলাইনে পাওয়া যাবে এবং যাদের ইন্টারনেট সংযোগ নেই তারা রাজ্য সরকার প্রতিষ্ঠিত সেবাকেন্দ্রে তাদের অবস্থান যাচাই করতে যেতে পারেন।’
কেন্দ্র বলেছে, সমস্ত আইনি বিষয় শেষ না হওয়া পর্যন্ত যাদের নাম চূড়ান্ত এনআরসিতে থাকছে না তাঁদের বিদেশি বলে ঘোষণা করা যাবে না। এনআরসির বাইরে থাকা প্রতিটি ব্যক্তি ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারে এবং আপিল দায়ের করার সময়সীমা ৬০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২০ দিন করা হয়েছে। 
তালিকা প্রকাশের পর বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হতে পারে এমন আশঙ্কা করেই কঠোর নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা রাজ্য। মোতায়েন করা হয়েছে ১০ হাজার আধাসামরিক বাহিনী ও পুলিশ। গুয়াহাটিসহ একাধিক স্পর্শকাতর এলাকায় বড় কোনো জমায়েত রুখতে জারি হয়েছে ১৪৪ ধারা। 
আশঙ্কা ১৪টি জেলা নিয়ে। রাজ্যের মোট ৩৩টি জেলার মধ্যে ১৪টিকে রাজ্য সরকার স্পর্শকাতর বলে ঘোষণা করেছে। মুসলিম-অধ্যুষিত এলাকায় নেওয়া হয়েছে বিশেষ সতর্কতা। বরাক উপত্যকার করিমগঞ্জ, হাইলাকান্দিসহ স্পর্শকাতর ১৪ জেলার ওপর বিশেষ নজর রেখেছে প্রশাসন।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পর বাংলাদেশ থেকে বেআইনিভাবে যারা আসমে ঢুকেছেন, তাঁদের চিহ্নিত করতে ১৯৫১ সালের আসাম নাগরিক পঞ্জীকরণের পুনর্নবীকরণ করা হচ্ছে। গত বছর ৩০ জুলাই এনআরসির খসড়া প্রকাশিত হওয়ার পর দেখা যায়, ৪০ লাখ ৭০ হাজার আবেদনকারীর নাম বাদ গেছে। আর তা নিয়েই শুরু হয় বিতর্ক। অধিকাংশেরই দাবি, যথাযথ তথ্যপ্রমাণ দেওয়া সত্ত্বেও তাঁদের নাম বাদ গেছে। 
নাগরিকপঞ্জিতে নাম তোলার জন্য মোট আবেদন জমা পড়ে ৩ কোটি ২৯ লাখ ৯১ হাজার ৩৮৪। চূড়ান্ত খসড়া তালিকায় স্থান হয় ২ কোটি ৮৯ লাখ ৮৩ হাজার ৬৭৭ জনের। বাতিলের তালিকায় ঠাঁই হয় ৪০ লাখ ৭ হাজার ৭০৭ জনের। পরে বাদ দেওয়া হয় আরো ১ লাখ ২ হাজার ৪৬৫ জনকে। নাগরিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হওয়া ৪১ লাখ ১০ হাজার ১৭২ জন নারী–পুরুষের অধিকাংশই হিন্দু ও মুসলমান বাঙালি।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল বলেছেন, 'কারও আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সরকার সকলের কথা ভাববে। যাদের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ যাবে, তাঁরাও নিজেদের ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণের সুযোগ পাবেন। এনআরসিতে নাম না থাকলেই তিনি বিদেশি বলে গণ্য হবেন না। কাউকে বিদেশি ঘোষণার অধিকার একমাত্র ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের রয়েছে। ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল কাউকে বিদেশি তকমা দিলেও তিনি উচ্চতর আদালতে যেতে পারবেন। ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে আবেদনের সময়সীমা ইতোমধ্যেই ৬০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২০ দিন করা হয়েছে। আশা করি, এনআরসির শান্তিপূর্ণ রূপায়ণে সকলে সহযোগিতা করবেন।'
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যাদের নাম তালিকা থেকে বাদ গেছে তাঁদের পক্ষে যুক্তি শোনার জন্য পর্যায়ক্রমে কমপক্ষে এক হাজার ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে; এর মধ্যে ১০০টি ট্রাইব্যুনাল ইতোমধ্যেই খুলে দেওয়া হয়েছে এবং আরো ২০০টি আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই স্থাপন করা হবে। ট্রাইব্যুনালে কেউ মামলা হারলেও তাঁরা উচ্চ আদালত এবং তারপরে সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন করতে পারবেন। সকল আইনি বিকল্প শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকেই  বিদেশি হিসাবে ঘোষণা করা হবে না বলে আশ্বস্ত করেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকার। 
এই পাতার আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Powered by orangebd.com