মঙ্গলবার,  ১৯ নভেম্বর ২০১৯  | সময় লোডিং...
প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০১৬, ১৬:১৩:০৬

গরুর মাংস ৫০০, চিনির কেজি ৮০ টাকা

সাম্প্রতিক দেশকাল প্রতিবেদক
গরুর মাংসের দাম সিটি করপোরেশন থেকে প্রতি কেজি নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪২০ টাকা। কিন্তু ঈদ উপলক্ষে সেই দাম মানা হচ্ছে না কোথাও কোথাও।
 
বুধবার প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকায়। শুধু গরুর মাংসই নয় সব ধরনের মাংসই অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছে ব্যবসায়ীরা। সেই সঙ্গে বাজারে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৭৫ টাকা থেকে ৮০ টাকায়। রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।
 
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, স্বামীবাগ, কাপ্তানবাজার গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিকেজি গরুর মাংস ৪৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মহিষের মাংস ৪২০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকায় এবং খাসির মাংস ৬০০ টাকা থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
 
মাংস ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপকালে তারা মাংসের দাম বাড়ার কোনো যৌক্তিক কারণ উল্লেখ করেনি। তবে তারা বলেন, সিটি করপোরেশনের বেঁধে দেয়া দাম ২৭ রমজান পর্যন্ত থাকে। এরপর তা থাকে না।
 
তারা পাল্টা প্রশ্ন করেন সবার ঈদের আনন্দ আছে আমাদেরও ঈদ আনন্দ করতে হবে। আর সব জিনিসের দাম বাড়তি মাংসের দাম বাড়লে দোষ কী?
 
এদিকে সিটি করপোরেশন রমজানের আগে মাংসের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছিল। নির্ধারিত দাম দুই মাস আগের চেয়ে বেশি দামেই নির্ধারণ করে সরকারের এই সংস্থাটি। দাম অনুযায়ী প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হওয়ার কথা ৪২০ টাকা, মহিষের মাংস ৪০০ টাকা এবং খাসির মাংস ৫৭০ টাকা। কিন্তু তা কেউ মানছে না।
 
এদিকে খুচরা বাজারে প্রতিকেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৭৫ টাকা থেকে ৮০ টাকায়। সরকারী সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) হিসেব মতে, গত এক মাসের ব্যবধানে চিনির দাম বাড়লো কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা। এক মাস আগে প্রতিকেজি চিনি বিক্রি হতো ৬০ টাকা থেকে ৬৫ টাকা। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৭৫ টাকা থেকে ৮০ টাকায়।
 
খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারী বাজারে যে চিনির বস্তা ২ হাজার ৯০০ টাকায় কেনা যেতো তার দাম গত দুই সপ্তাহে দ্বিগুনের চেয়ে বেশি বেড়েছে। তাই চিনির খুচরা বাজারে প্রভাব পড়েছে।
 
কাপ্তান বাজারের ঢাকা ট্রেডার্সের সত্ত্বাধিকারী হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘রোজায় চিনির চাহিদা অন্যান্য সময়ের চেয়ে বেশি। তবে চাহিদানুযায়ী চিনির যোগান বাজারে নেই। এক ধরনের অসৎ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে চিনির বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। আমরা ছোট ব্যবসায়ীরা তাদের নিকট জিম্মি হয়ে আছি।’
 
তিনি দুঃখ করে বলেন, ‘গত এক সপ্তাহে আগে পাইকারী বাজারে যাই। প্রথম দিন গিয়ে চিনির জন্য ৩ ঘন্টা বসে ছিলাম। চিনি নেই। পরের দিন চিনির আনতে গেলে অর্ডার ও পেমেন্ট দেয়ার ২ ঘন্টা পর চিনি পাই।  তারা চিনির সঙ্কট বলে দুই দিন সময় ক্ষেপণ করে চিনি বিক্রি করেছে। তাও আবার চড়া দামে। আর তাই খুচরা বাজারে চিনির দাম বেশি।’
 
ভোক্তাসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, ঈদের আগের দুয়েকটি পণ্যের দাম এতো বেশি বাড়ানো হয়েছে যার সঙ্গে অসাধু ব্যবসায়ীরা জড়িত। সরকারের মনিটরিং ব্যবস্থার দুবলতার কারণে অতিরিক্তি মুনাফা করছে ব্যবসায়ীরা। তাই বিশেষ দিন গুলোতে গুরুত্ব সহকারে সরকারের মনিটরিং জোরদার করার পরামর্শ দেন তারা।  
 
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ‘আসলে রোজার অনেক ‍আগেই ব্যবসায়ীরা কৌশলে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। সরকারের ভ্রাম্যমান আদালত রোজায় কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করেছে। বিশেষ করে যারা অতিরিক্ত মজুদ করে চড়া দামে বিক্রি করতে চেয়েছিল তাদের জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।’ তবে মনিটরিং ব্যবস্থা অব্যাহত থাকলে এবং কেন দাম এতো বেশি বাড়ানো হচ্ছে, কারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনলে অসৎ ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মুনাফা করবে না বলে মনে করছেন তিনি।
এই পাতার আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Powered by orangebd.com